Happening Now
রক্ষিতা হওয়ার প্রস্তাব মেনেও প্রতারিত হয়েছিলেন বিনোদিনী- ওনার নামে আজকে থিয়েটার
বিখ্যাত স্টার থিয়েটারের নাম বদলে হয়েছে বিনোদিনী থিয়েটার যা অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। বাংলার প্রথম এই অভিনেত্রীর জীবন ছিল কণ্টকময়। আজকে ১৪৪ বছর পর তিনি বিচার পেলেন বলে মনে করছে অনেকেই।


বিপ্লবী বিনোদিনী
- রক্ষিতা থেকে জীবন সংশয়, এক পুরুষের বিছানা থেকে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্য পুরুষের ঠিকানায় বারংবার, ভঙ্গ করা হয়েছে তার বিশ্বাস, কথা দিয়ে কথা রাখেনি কেউ। এমনকি তাঁর গুরু গিরীশ ঘোষও প্রতারনা করেছিল তাকে।
- পুরুস্তান্ত্রিক সমাজে এক নবজাগরনের সুচনা করেছিল বিনোদিনী। বঙ্গনারীদের জন্য উন্মুক্ত করেছিল রঙ্গমঞ্চের দরজা। পেয়েছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কৃপা।
- আজকে তাঁরই মৃত্যুর ১৪১ বছর পর বিচার পেলেন ‘ফ্লাওয়ার অফ দ্য স্টার থিয়েটার’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্যোগে স্টার থিয়েটারের নাম বদলে হয়েছে বিনোদিনী থিয়েটার। যা নটী বিনোদিনীর সঙ্গে হওয়া অবিচারের উপর হয়ত কিছুটা মলম দিতে পারল।
বিনোদিনী থেকে নটী হওয়ার উপাখ্যান
- শুধুই অভিনেত্রী ছিলেন(spelling) না তিনি। একাধারে ছিলেন তুখোড় গায়িকা অন্যদিকে অসামান্য লেখিকা। কিন্তু প্রতিভা সম্পন্ন এই নারী সারা জীবনে খালি পেয়েছেন অবহেলা, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনা।
- বিনোদিনী দাসী ১২ বছর বয়সে অভিনয় শুরু করেন। তিনি ১৮৭৪ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত কলকাতার ঔপনিবেশিক পাবলিক মঞ্চে অভিনয় করেছেন।
- বাংলার নবজাগরণে এক বিপ্লবের সুচনা করেছিলেন বিনোদিনী। কিন্তু তা স্বত্বেও বারবনীতা তকমা পেছন ছারেনি তার।
- ১৮৭৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে তিনি চৌদ্দ বছর বয়সে ‘দ্রোপদী’ নামে ছোট একটি চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন। এ থিয়েটারে তিনি ছয় বছর কাজ করেন। পাশাপাশি স্বল্প সময়ের জন্য তিনি বেঙ্গল থিয়েটারেও অভিনয় করেন।
- এই থিয়টারেই তিনি পান অভিনেতা গিরীশচন্দ্র ঘোষকে। এই গিরীশচন্দ্রই বিনোদিনীকে ঘোষে মেজে তৈরি করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখাপরাও শিখেছিলেন গুরু গিরীশ ঘোষের কাছেই।
- বিনোদিনীর লেখা থেকে জানা যায়, বালিকা বয়স থেকেই নাচে গানে মন ছিল তাঁর। গঙ্গাবাইয়ের কাছে গান শেখেন বিনোদিনী। পরে এই গঙ্গা বাঈয়ের কাছে গান শুনতে আসা দুই ভদ্রলোকের হাত ধরে অভিনয় জগতে হাতেখড়ি হয় তাঁর মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে।
- ৫০ টি নাটকে ৬০ টিরও বেশী চরিত্রে অভিনয় করেন নটী। কপাল কুন্দলা থেকে নীল দর্পন বাংলা রঙমঞ্চ বিনোদিনীর থেকে প্রতিভা নিংড়ে নিয়েছিল। তার বদলে দিয়েছিল শুধুই অবহেলা, দিয়েছিল ললুব্ধ দৃষ্টি।
প্রতারিত হয়েছিলেন বিনোদিনী
- বিনোদিনীর অভিনয় কেরিয়ার যখন মধ্যগগনে ঠিক তখনই গিরীশচন্দ্র ঘোষ ও অন্যান্য অভিনেতারা ঠিক করেন আর একটি থিয়েটার তৈরি হবে। কিন্তু টাকার যোগান হবে কোথা থেকে? সেই ডাক পরল বিনোদিনীর। বলা হল যেভাবে হোক তাকে সাহায্য করতে হবে। তার বদলে নতুন থিয়েটারের নাম হবে বি থিয়েটার। কিন্তু তা যে সম্পুর্ন মিথ্যা এবং এই ‘যেভাবে পারো’ তাঁর পেছনে ছিল অন্য কারণ।
- এই থিয়েটারের জন্য মারয়ারী ব্যবসাদারের রক্ষিতা পর্জন্ত হতে হয়েছিল বিনোদিনীকে, এর ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বিনোদিনীর আগের ন্যাশনাল থিয়েটারের মালিক। খুন করতে উদ্যত হন তিনি, বিনোদিনীর জীবন সংশয়ও ঘটে। কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধির জেরে বেঁচে যান বিনোদিনী।
- এই থিয়েটারের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত বাজি রেখেছিলেন বিনোদিনী, সবটুকু উজার করে দিয়েছিলেন। গিরীশ ঘোষ থেকে অন্যান্য অভিনেতারা বার বার বলেছিল নতুন থিয়েটার তাঁর নামেই হবে তাই বিনোদিনীকে যেভাবে হোক অর্থের ব্যাবস্থা করতে হবে, বিনোদিনী করেছিলেনও তাই, সব টুকু দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন অর্থের যোগানের।
- কিন্তু থিয়েটার হওয়ার আগে রেজিস্ট্রির দিন বিনোদিনী জানতে পারেন থিয়েটারের নাম বিনোদীনি নয় বরং হবে স্টার থিয়েটার। রাগে দুঃখে, অপমানে স্তব্ধ হয়ে যান বিনোদিনী।
- এই বিশ্বাস ঘাতকতা তাকে এততাই আঘাত করেন যে মাত্র ২৩ বছর বয়সে রংমঞ্চ থেকে বিদায় নেন বিনোদিনী।




ব্রডকাস্ট চ্যানেল








ডেইলি ডিজিটাল নিউজ পেপার






